সৌদি আরবের আইন: বাংলাদেশি অভিবাসীদের অবশ্যই যে নিয়মগুলো মেনে চলতে হবে

 

সৌদি আরবে কর্মসংস্থানের জন্য যাওয়া বাংলাদেশি অভিবাসীদের অবশ্যই দেশটির আইন ও সংস্কৃতি সম্পর্কে ভালোভাবে জানা উচিত। কঠোর আইন ও বিধিনিষেধ মেনে না চললে বড় ধরনের সমস্যা বা আইনি জটিলতায় পড়তে হতে পারে। সৌদি আরবে যাওয়ার আগেই কিছু গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম জানা আবশ্যক এবং দেশটিতে পৌঁছানোর পরও এসব আইন যথাযথভাবে মেনে চলতে হবে।

 

সৌদি আরবে যাওয়ার আগে যেসব আইনি বিষয় জানা জরুরি:

সৌদি আরবে যাওয়ার আগে কিছু গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম ও প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়। এসব নিয়ম সঠিকভাবে না মানলে ভিসা বা চাকরির ক্ষেত্রে জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে। সৌদি আরবে কাজ করতে হলে বৈধ ওয়ার্ক ভিসা ও ইকামা থাকা বাধ্যতামূলক। পর্যটন বা অন্য কোনো ভিসায় গিয়ে কাজ করলে তা অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে এবং আটক বা নির্বাসিত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাই, বৈধ কাগজপত্র সংগ্রহ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

 

চাকরির চুক্তিতে স্বাক্ষর করার আগে শর্তগুলো ভালোভাবে বুঝে নিতে হবে। বেতন, কাজের সময়সীমা, সুযোগ-সুবিধা ও কর্মস্থলের শর্তাবলী সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে নেওয়া উচিত। প্রতারণা থেকে বাঁচতে সরকার অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে সৌদি আরবে যাওয়া নিরাপদ। এছাড়া, সৌদি আরবে কাজ করতে চাইলে সরকার অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টারে স্বাস্থ্য পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া জরুরি। যেসব রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা সৌদি আরবে কাজ করতে পারেন না, যেমন যক্ষ্মা, এইচআইভি/এইডস বা হেপাটাইটিস বি ও সি—এসব পরীক্ষা করা হয়।

 

সৌদি আরবে যাওয়ার সময় কোনো অবৈধ ও নিষিদ্ধ সামগ্রী সঙ্গে নেওয়া যাবে না। মদ, মাদকদ্রব্য, শুকরের মাংস, পর্নোগ্রাফি বা ইসলামবিরোধী বই-পত্র এসব সামগ্রী বহন করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। বিমানবন্দরে এসব সামগ্রী ধরা পড়লে কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে। এছাড়া, সৌদি আরবে যাওয়ার আগে দেশটিতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের ঠিকানা ও যোগাযোগ নম্বর সংগ্রহ করা উচিত, যাতে যেকোনো আইনি সমস্যা হলে দ্রুত তাদের সহযোগিতা নেওয়া যায়।

 

সৌদি আরবে পৌঁছানোর পর যেসব আইন মেনে চলতে হবে

 

সৌদি আরবে যাওয়ার পর দেশের সংস্কৃতি, আইন ও বিধিবিধান মেনে চলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশটির আইন ভঙ্গ করলে শাস্তি, জেল বা দেশে ফেরত পাঠানোর মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। সৌদি আরবে বসবাস ও কাজ করার জন্য ইকামা (Iqama) সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নথি। এটি সবসময় সঙ্গে রাখতে হবে এবং মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই নবায়ন করতে হবে।

 

সৌদি আরব একটি ইসলামী দেশ, যেখানে ধর্মীয় নিয়ম-কানুন কঠোরভাবে পালন করা হয়। ইসলাম ও পবিত্র স্থানগুলোর প্রতি অসম্মানজনক কোনো আচরণ করলে কঠিন শাস্তির সম্মুখীন হতে হতে পারে। যে কাজের জন্য ভিসা নেওয়া হয়েছে, সেই কাজই করতে হবে। অনুমতি ছাড়া অন্য কোনো কাজে যুক্ত হলে তা আইনত অপরাধ বলে বিবেচিত হবে এবং আটক হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে।

 

সৌদি আরবে মদ্যপান সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। কেউ যদি মদ পান করতে গিয়ে ধরা পড়ে, তাহলে কারাদণ্ড বা দেশ থেকে বহিষ্কারও হতে পারে। এছাড়া, উন্মুক্ত স্থানে উচ্চস্বরে কথা বলা, ধুমপান করা, অশালীন আচরণ করা বা কারো সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করা সৌদি আইনে দণ্ডনীয় অপরাধ।

 

নারীদের প্রতি সৌদি সমাজে বিশেষ সম্মান দেখাতে হয়। রাস্তায় বা কর্মস্থলে কোনো নারীর সঙ্গে অশালীন আচরণ করলে তা যৌন হয়রানি হিসেবে গণ্য হতে পারে এবং শাস্তি পেতে হতে পারে। ইসলামের বিরুদ্ধে বা ধর্মীয় বিতর্কে জড়ানো কঠোরভাবে নিষিদ্ধ এবং অন্য ধর্মের প্রচারও দণ্ডনীয় অপরাধ।

সৌদি আরবের সামাজিক ও রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে অনলাইনে কোনো বিতর্কিত মন্তব্য বা পোস্ট করা থেকে বিরত থাকা উচিত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিছু পোস্ট করার আগে সতর্ক থাকা জরুরি, কারণ অনাকাঙ্ক্ষিত পোস্টের কারণে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। একইভাবে, কোনো সরকারি ভবন, সামরিক এলাকা বা স্থানীয় লোকজনের ছবি তোলার আগে অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক। অনুমতি ছাড়া ছবি তুললে বড় ধরনের শাস্তির সম্মুখীন হতে হতে পারে।

সৌদি আরবে কিছু বিনোদনমূলক কার্যক্রমের ওপর বিধিনিষেধ রয়েছে। রাতের ক্লাব, ক্যাসিনো বা কোনো অনৈতিক কাজের সঙ্গে যুক্ত হওয়া কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। ট্রাফিক আইন অত্যন্ত কঠোর হওয়ায় সড়কে দুর্ঘটনা ঘটালে বা ট্রাফিক আইন ভঙ্গ করলে বড় অঙ্কের জরিমানা হতে পারে।

 

আইনি সমস্যায় পড়লে কী করবেন?

 

যদি সৌদি আরবে কোনো আইনি সমস্যায় পড়তে হয়, তবে দ্রুত বাংলাদেশ দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত। কোনো অবৈধ কাজের সঙ্গে যুক্ত হওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে এবং চাকরি বা বসবাসের জন্য কোনো অবৈধ সংস্থার সাহায্য নেওয়া উচিত নয়। যদি নিয়োগকর্তার সঙ্গে কোনো সমস্যা হয়, তাহলে সরাসরি কথা বলে বা সৌদি আরবের শ্রম মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করা ভালো।

সৌদি আরবে দীর্ঘমেয়াদী ক্যারিয়ার গড়তে হলে দেশটির আইন ও সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা জরুরি। আইনি বিধিনিষেধ মেনে চললে সেখানে নিরাপদভাবে বসবাস ও কাজ করা সম্ভব হবে।

  • 1

    টিকিট বুকিং ও প্রস্তুতি

    অনলাইনে টিকিট বুকিং, ভিসা ও লাগেজ প্রস্তুত
  • 2

    বিমানবন্দরে চেক-ইন ও ইমিগ্রেশন

    বোর্ডিং পাস সংগ্রহ ও ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া
  • 3

    ফ্লাইট ও যাত্রা

    নির্ধারিত সময়ে ফ্লাইটে উঠুন ও ভ্রমণ করুন
  • 4

    সৌদি আরবে অবতরণ ও ইমিগ্রেশন

    ইমিগ্রেশন পার হয়ে গন্তব্যে পৌঁছান

প্রতারক এজেন্সি থেকে বাঁচার উপায়

অনেক দালাল ও ভুয়া এজেন্সি শ্রমিকদের প্রতারণার ফাঁদে ফেলে টাকা হাতিয়ে নেয়। সঠিক তথ্য ছাড়া কাউকে টাকা দেবেন না এবং যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত নিন।