- ব্যাংকের অফিসিয়াল নম্বর ছাড়া কাওকে তথ্য দেবেন না।
- কোনো ফেক ওয়েবসাইট বা অ্যাপে লগইন করবেন না।
- নিজের কার্ড কাউকে দিবেন না, PIN গোপন রাখুন।
- বিশ্বাসযোগ্য রেমিট্যান্স ও ব্যাংকিং মাধ্যম ব্যবহার করুন।
- অতিরিক্ত লাভের অফারে প্রতারিত হবেন না।
সৌদি আরব, মধ্যপ্রাচ্যের একটি ধনী দেশ, তেল, হজ-উমরা এবং বৃহৎ শ্রমবাজারের জন্য পরিচিত। বাংলাদেশ থেকে বহু মানুষ বৈধ উপায়ে সৌদি আরবে গিয়ে কাজ করে এবং পরিবারের জন্য রেমিট্যান্স পাঠায়।
সৌদি আরবে কাজের জন্য আপনাকে ওয়ার্ক ভিসা নিতে হবে। এটি দুইভাবে পাওয়া যায়: ১) রিক্রুটিং এজেন্সি ২) স্পন্সরের মাধ্যমে। কাজের ধরন অনুযায়ী ভিসা ভিন্ন হতে পারে—শ্রমিক, ড্রাইভার, দক্ষ শ্রমিক (ইলেকট্রিশিয়ান, মেকানিক), এবং প্রফেশনাল (ইঞ্জিনিয়ার, চিকিৎসক)। দালালদের মাধ্যমে ভিসা নিলে বিপদে পড়তে পারেন।
গামকা মেডিকেল পরীক্ষার পর বৈধ পাসপোর্ট, চাকরির অফার লেটার, মেডিকেল রিপোর্ট, সৌদি ওয়ার্ক ভিসা অনুমোদন এবং বিমান টিকেটসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঙ্গে নিয়ে যেতে হবে।
বাসার খরচ কম, কারণ অনেক কোম্পানি কর্মীদের ফ্রি বা কম খরচে বাসা দেয়। শেয়ার বাসায় ৩০০-৬০০ রিয়ালে থাকা সম্ভব, পরিবার নিয়ে থাকতে ১০০০-২০০০ রিয়াল লাগে। খাবার রান্না করলে ২০০-৩০০ রিয়াল, বাইরে খেলে ৫০০-১০০০ রিয়াল হতে পারে। পাবলিক ট্রান্সপোর্ট যেমন বাস ও ট্যাক্সি সাশ্রয়ী।
অকর্মশীল কাজ: শ্রমিক, ক্লিনার, নিরাপত্তা – ৮০০-১৮০০ রিয়াল।
দক্ষ কাজ: ইলেকট্রিশিয়ান, ওয়েল্ডার, মেকানিক – ২০০০-৩৫০০ রিয়াল।
প্রফেশনাল কাজ: ইঞ্জিনিয়ার, ডাক্তার – ৪০০০-১০,০০০ রিয়াল। ওভারটাইম করলে বেতন বাড়ে।
টাকা পাঠানোর উপায়
Village Digital Booth সেবা দিয়ে দ্রুত ও সস্তায় টাকা পাঠানো যায়, যা সরকারি অনুমোদিত এবং নিরাপদ।
কর্মসংস্থানের সমস্যা
বেতন না দিলে SMLSD-এ অভিযোগ করুন। এক কোম্পানি থেকে অন্য কোম্পানিতে যেতে Absher অ্যাপ ব্যবহার করতে হবে।
দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা ও ব্যবসার সুযোগ
ফ্রিল্যান্স, পার্টটাইম, বা নির্দিষ্ট খাতে (যেমন গাড়ির যন্ত্রাংশ, গার্মেন্টস) ব্যবসা করে লাভবান হতে পারেন।
ইকামা ও পাসপোর্ট নিরাপদে রাখুন, অপ্রয়োজনীয় খরচ কমিয়ে সঞ্চয় করুন, এবং চুক্তিপত্র ভালোভাবে পড়ুন। Village Digital Booth থেকে রেমিট্যান্স পাঠান, কোনো সমস্যা হলে দূতাবাসে যোগাযোগ করুন।
সরকার অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সি দিয়ে ভিসা নিন। ভিসা পাওয়ার আগে চুক্তি ভালোভাবে বুঝে নিন এবং দালাল থেকে দূরে থাকুন।
সাধারণত ৮-১০ ঘণ্টা কাজ করতে হয়। কোম্পানি ওভারটাইম দিলে বাড়তি টাকা দেয়। সৌদি শ্রম আইন অনুযায়ী বেতন সময়মতো না দিলে অভিযোগ করা যায়।
দীর্ঘমেয়াদী কর্মজীবনের পর পরিবারের সদস্যদের স্পন্সর করা যায়। বাচ্চা বা স্ত্রীর জন্য ৪০০০-৫০০০ রিয়াল বেতন প্রয়োজন।
বাংলাদেশ দূতাবাস, শ্রম মন্ত্রণালয় এবং Absher অ্যাপের মাধ্যমে যেকোনো সমস্যা সমাধান করতে পারেন। জরুরি সাহায্য পেতে পুলিশ (৯৯৯) বা দূতাবাসের সাথে যোগাযোগ করুন।
ইকামা নবায়ন করতে হয় প্রতি বছর। কফিল পরিবর্তন করতে Absher বা শ্রম অফিসের সাহায্য নিতে হয়। অবৈধ হয়ে গেলে ‘Awdah’ প্রোগ্রামের মাধ্যমে দেশে ফেরার ব্যবস্থা করা যায়।
রিয়াদে অফিস/কর্পোরেট চাকরি, জেদ্দায় ব্যবসার সুযোগ, দাম্মামে নির্মাণ ও কারিগরি কাজের সুযোগ বেশি। মদিনা-মক্কায় হজ-উমরাহ সংক্রান্ত কাজের সুযোগ।
শরীয়া আইন মেনে চলতে হয়, এবং অপরাধে কঠোর শাস্তি হতে পারে। নারীদের জন্য বিশেষ নিয়ম রয়েছে। স্থানীয় আইন সম্পর্কে জানতে দূতাবাস বা কোম্পানির সাথে যোগাযোগ করুন।
সঠিক পরিকল্পনা, আইন মেনে চলা এবং নিয়মিত সঞ্চয় করার মাধ্যমে সৌদি আরবে কাজ করে ভবিষ্যতের জন্য ভালো অর্থনৈতিক সুরক্ষা গড়া সম্ভব।
অনেক দালাল ও ভুয়া এজেন্সি শ্রমিকদের প্রতারণার ফাঁদে ফেলে টাকা হাতিয়ে নেয়। সঠিক তথ্য ছাড়া কাউকে টাকা দেবেন না এবং যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত নিন।