
সৌদি আরবে ব্যাংকিং প্রতারণা থেকে রক্ষা পাওয়ার উপায়
সৌদি আরবে ব্যাংকিং প্রতারণা থেকে রক্ষা পাওয়ার উপায় অনেক প্রবাসী বাংলাদেশি প্রতারণার ফাঁদে পড়ে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হন। নিচে কিছু
সৌদি আরবে চাকরির সুযোগ পেতে হলে সঠিক নিয়ম মেনে চলা এবং দক্ষতা অনুযায়ী চাকরির ধরন নির্বাচন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সৌদি আরবে মূলত চার ধরনের চাকরি পাওয়া যায়, যা শ্রমিক, ড্রাইভার, দক্ষ কর্মী এবং পেশাজীবীদের মধ্যে বিভক্ত।
শ্রমিক শ্রেণির চাকরিগুলোর মধ্যে সাধারণত নির্মাণ শ্রমিক, ক্লিনার, গৃহকর্মী ও কৃষি শ্রমিকদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এই ধরনের কাজ সহজে পাওয়া গেলেও এতে শারীরিক পরিশ্রম বেশি করতে হয়। বেতন তুলনামূলক কম হলেও অনেক ক্ষেত্রে কোম্পানি থাকা ও খাওয়ার সুবিধা দিয়ে থাকে। অন্যদিকে, যারা গাড়ি চালাতে পারেন, তাদের জন্য ব্যক্তিগত গাড়ি চালক, কোম্পানির ড্রাইভার বা ট্রাক ড্রাইভার হিসেবে কাজের সুযোগ রয়েছে। ড্রাইভারদের বেতন মূলত কোম্পানির ওপর নির্ভর করে এবং অভিজ্ঞতা অনুযায়ী তা পরিবর্তিত হতে পারে।
যারা নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে দক্ষ, যেমন ইলেকট্রিশিয়ান, ওয়েল্ডার, মেকানিক, প্লাম্বার বা রেস্টুরেন্ট শেফ, তারা তুলনামূলক ভালো বেতনে কাজের সুযোগ পেতে পারেন। এই চাকরিগুলোর ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ওভারটাইম সুবিধাও পাওয়া যায়, যা আয় বৃদ্ধিতে সহায়ক হয়। উচ্চশিক্ষিত ও পেশাদার ব্যক্তিদের জন্য সৌদি আরবে ডাক্তার, নার্স, প্রকৌশলী, অ্যাকাউন্ট্যান্ট, আইটি বিশেষজ্ঞ বা শিক্ষক হিসেবে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। এই ধরনের চাকরিগুলোর বেতন অনেক বেশি এবং সাধারণত আকামা, থাকা ও মেডিকেল সুবিধাসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা প্রদান করা হয়।
সৌদি আরবে চাকরির সুযোগ পেতে হলে কিছু নির্দিষ্ট মাধ্যম অনুসরণ করা উচিত। বাংলাদেশ সরকারের অনুমোদিত বোয়েসেল (BOESL) এবং বিএমইটি (BMET) রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে চাকরির আবেদন করা সবচেয়ে নিরাপদ পদ্ধতি। এছাড়া, সৌদি আরবের সরকারি চাকরির ওয়েবসাইট, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চাকরি পোর্টাল এবং কোম্পানির অফিসিয়াল ওয়েবসাইটেও সরাসরি আবেদন করা যায়। সৌদি আরামকো, বিন লাদেন গ্রুপ, সৌদি এয়ারলাইন্সসহ বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানে দক্ষ ও অভিজ্ঞ কর্মীদের জন্য সরাসরি নিয়োগের সুযোগ থাকে।
চাকরির জন্য আবেদন করতে হলে প্রথমে উপযুক্ত পদের জন্য অনুসন্ধান করতে হয়। এরপর পাসপোর্ট ও প্রফেশনাল সিভি প্রস্তুত করে নিয়োগকর্তার ইন্টারভিউয়ের জন্য প্রস্তুত হতে হয়। চাকরির অফার লেটার পাওয়ার পর ভিসা প্রসেসিংয়ের মাধ্যমে সৌদি আরবে কাজের সুযোগ নিশ্চিত করতে হয়। সৌদি আরবে বেতন নির্ভর করে কাজের ধরন, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার ওপর। অধিকাংশ কোম্পানি কর্মীদের থাকা ও খাওয়ার ব্যবস্থা করে, আকামা প্রদান করে এবং ওভারটাইম সুবিধা দেয়। দীর্ঘমেয়াদি চাকরির ক্ষেত্রে বিমা, স্বাস্থ্যসেবা ও নির্দিষ্ট সময় পর দেশে আসার সুযোগ দেওয়া হয়।
সৌদি আরবে চাকরি পাওয়ার জন্য নির্দিষ্ট কিছু যোগ্যতা থাকা আবশ্যক। শ্রমিক ও ড্রাইভার পদের জন্য সাধারণত ১৮ থেকে ৪৫ বছর বয়সের মধ্যে থাকা, শারীরিকভাবে সুস্থ থাকা এবং পাসপোর্ট ও পুলিশ ক্লিয়ারেন্স থাকা বাধ্যতামূলক। দক্ষ ও পেশাজীবীদের জন্য সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতা, সার্টিফিকেট এবং ইংরেজি ও আরবি ভাষার জ্ঞান থাকলে তা অতিরিক্ত সুবিধা প্রদান করে।
সৌদি আরবের শ্রম আইন ও কর্মীদের অধিকার অত্যন্ত সুস্পষ্টভাবে নির্ধারিত। চুক্তিভিত্তিক চাকরি বাধ্যতামূলক এবং চুক্তিপত্রে বেতন, কর্মঘণ্টা, ছুটি ও অন্যান্য সুবিধার উল্লেখ থাকতে হয়। সাধারণত সপ্তাহে ৪৮ ঘণ্টা কাজ করতে হয়, তবে রমজান মাসে এটি কমিয়ে ৩০ ঘণ্টা করা হয়। ওভারটাইমের ক্ষেত্রে ১৫০% অতিরিক্ত বেতন প্রদান করা হয়। কর্মীদের বেতন ব্যাঙ্কের মাধ্যমে দেওয়া হয়, যাতে প্রতারণা রোধ করা যায়। বছরের নির্দিষ্ট সময়ে কর্মীরা ২১ থেকে ৩০ দিনের পেইড ছুটির সুবিধা পান এবং নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে স্পনসর পরিবর্তনের সুযোগও রয়েছে।
সৌদি আরবে আকামা নবায়ন ও চাকরি পরিবর্তন করা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সাধারণত প্রতি এক থেকে দুই বছর পর আকামা নবায়ন করতে হয়, যা সাধারণত নিয়োগকর্তার দায়িত্ব। স্পনসরের অনুমতি ছাড়া আগে চাকরি পরিবর্তন করা সম্ভব ছিল না, তবে বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, নির্দিষ্ট সময় একই প্রতিষ্ঠানে কাজ করার পর নতুন চাকরিতে আবেদন করা যায়। আকামার মেয়াদ ও নবায়নের বিষয়টি নিরীক্ষণ করার জন্য সৌদি আরবের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ব্যবহার করা যেতে পারে।
ভিসা জালিয়াতি ও প্রতারণা এড়ানোর জন্য অবৈধভাবে ভিসা কেনা থেকে বিরত থাকা উচিত। ভিসা প্রসেসিংয়ের জন্য শুধুমাত্র সরকারি অনুমোদিত এজেন্সির মাধ্যম ব্যবহার করা উচিত। ফাঁকা চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর না করা, চাকরির জন্য অতিরিক্ত টাকা প্রদান না করা এবং সরকারি সংস্থার মাধ্যমে চাকরির তথ্য যাচাই করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সৌদি আরবে বসবাসের ক্ষেত্রে কিছু নিরাপত্তা ও জীবনযাত্রার নিয়ম অনুসরণ করা উচিত। অনেক কোম্পানি কর্মীদের জন্য হোস্টেল বা ফ্ল্যাটের ব্যবস্থা করে, তবে যদি নিজে থাকার জায়গা খুঁজতে হয়, তাহলে স্থানীয় বাসিন্দাদের সাহায্য নেওয়া যেতে পারে। খরচ কমানোর জন্য স্থানীয় মুদি দোকান থেকে কেনাকাটা করা এবং মাসিক বাস বা মেট্রো কার্ড ব্যবহার করা যেতে পারে। সৌদি সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা এবং ইসলামী নিয়ম-কানুন মেনে চলা আবশ্যক। জরুরি প্রয়োজনে সৌদি পুলিশের নম্বর ৯৯৯ এবং বাংলাদেশ দূতাবাসের হটলাইন নম্বর সংরক্ষণ করা উচিত।
সৌদি আরব থেকে বাংলাদেশে টাকা পাঠানোর জন্য নির্ভরযোগ্য এক্সচেঞ্জ হাউস ব্যবহার করা উচিত। আল-রাজি এক্সচেঞ্জ, এনজাজ রেমিট্যান্স ও ওয়েস্টার্ন ইউনিয়ন এর মাধ্যমে সহজেই টাকা পাঠানো যায়। অনলাইন ট্রান্সফারের জন্য রেমিটলি, বিকাশ ও নগদের মতো প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করা যেতে পারে। সৌদি আরব থেকে দ্রুত ও নিরাপদ অর্থ প্রেরণের জন্য Zaytoon Business Solutions-এর Village Digital Booth ব্যবহার করা যেতে পারে, যা বিশ্বস্ত এবং দ্রুতগতির রেমিট্যান্স সেবা প্রদান করে।
অনেক দালাল ও ভুয়া এজেন্সি শ্রমিকদের প্রতারণার ফাঁদে ফেলে টাকা হাতিয়ে নেয়। সঠিক তথ্য ছাড়া কাউকে টাকা দেবেন না এবং যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত নিন।

সৌদি আরবে ব্যাংকিং প্রতারণা থেকে রক্ষা পাওয়ার উপায় অনেক প্রবাসী বাংলাদেশি প্রতারণার ফাঁদে পড়ে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হন। নিচে কিছু

সৌদি আরবে বৈধভাবে কাজ করতে হলে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা অত্যন্ত জরুরি। এতে বেতন গ্রহণ, বিল পরিশোধ এবং দেশে টাকা পাঠানো

বাংলাদেশে টাকা পাঠানোর জন্য সৌদি আরবে নানা বিকল্প উপলব্ধ রয়েছে। আপনি নিম্নলিখিত পদ্ধতিগুলোর মাধ্যমে টাকা পাঠাতে পারেন: আন্তর্জাতিক মানি ট্রান্সফার